কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা সকলের জেনে রাখা উচিত

Written By

কলকাতার কোন স্থানে সব থেকে বেশী মানব সঙ্গম ঘটে ? এইরকম একটা কঠিন প্রশ্ন যেটা সাধারণত অনেক হিসেব কষে বার করতে হয় সেটা অন্তত এই স্থানের ক্ষেত্রে খাঁটে না। ভীড়ের আয়তন হিসেবে কলকাতার দ্রষ্টব্য স্থানগুলির মধ্যে প্রথম স্থান জয় করেছে কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা। গত দশ বছরের খতিয়ান দেখে সহজেই বোঝা যায়, এই স্থানের মত জনপ্রিয়তা কলকাতার আর কোনো দ্রষ্টব্য স্থানের আর নেই। দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানে কে থাকবে সেটা বলা খুব কঠিন হলেও, প্রথম স্থানটি বছরের বছরের পর ধরে আলিপুর চিড়িয়াখানা নিজের নামে করে রেখেছে।

কেন এই ভীড় ? চিড়িয়াখানার প্রতি ছোটদের আকর্ষণ দেখবার মত। আজকের এই জিয়োগ্রাফিক, অ্যানিমাল প্লানেটের যুগেও একেবারে হাতের কাছ থেকে বাঘ কুমীর জিরাফ দেখার আকর্ষণ কোনো শিশু-কিশোরই এড়াতে পারে না। তাছাড়া চিড়িয়াখানার মত এত বিশাল পরিধি কলকাতার আর কোনো দ্রষ্টব্য স্থানের আছে কিনা সন্দেহ। আসুন কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা সম্পর্কে জেনে নিই বেশ কিছু অজানা জরুরী তথ্য।



Kolkata Alipore Royal Bengal Tiger

চিড়িয়াখানার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আজ থেকে ২১৭ বছর আগে, ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দে বাংলার তদনীন্তন গভর্নর জেনারেল আর্থার ওয়েলেসলি উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুরে নিজের বাসভবনে একটি ছোট পশু উদ্যান গড়ে তোলেন। এই পশু উদ্যানের ভার দেওয়া হয় স্কটল্যান্ডের বিশিষ্ট প্রাণীতত্ববিদ ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন কে। ১৮১০ সালে বিখ্যাত শিকারী স্যার স্টাম্ফোর্ড র‍্যাফেল এই পশু উদ্যানে এসে টাপি শিকার করেন। এই ছোট চিড়িয়াখানা অথবা পশু উদ্যান সেই সময় এতটাই জনপ্রিয় হয়, যে লন্ডন চিড়িয়াখানাও এখান থেকে বেশ কিছু জিনিস অনুকরণ করে।

সারা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে চিড়িয়াখানা গঠন হতে থাকলে এই শহরেও একটা চিড়িয়াখানার পক্ষে ক্যালকাটা জার্নাল অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি পত্রিকায় সোয়াল করা হয়। অনেক কাঠখড় পেরিয়ে ১৮৭৩ সালে স্যার রিচার্ড টেম্পল কলকাতায় চিড়িয়াখানা গড়ার প্রস্তাব দেন। এশিয়াটিক শোসাইটি এবং এগ্রিকালচার সোসাইটিকে জমি প্রদান করা হয়, ১৮৭৬ সালে ১লা জানুয়ারী প্রিন্স অফ ওয়েলস সপ্তম এডওয়ার্ড কলকাতার আলিপুরে এই চিড়িয়াখানার উদ্বোধন করেন।


Sonagachhi History সোনাগাছির নিষিদ্ধ গলি থেকে তুলে আনা কিছু গল্প - কিছু অজানা তথ্য যা আপনি জানেন না
Victoria Memorial Travel Guide ভিক্টোরিয়াল মেমোরিয়াল সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা সকলের জেনে রাখা উচিত

মূলত ব্যারাকপুরের সেই ছোট পশু উদ্যানকে স্থানান্তরিত করা হয়, তাছাড়া সেই সময়কার জার্মান ইলেকট্রিশিয়ান কার্ল লুইস সোয়েন্ডলার যিনি ভারতীয় রেলওয়ে স্টেশনের বৈদ্যুতিকরণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি বহু পশু দান করেন। এছাড়াও কলকাতা ঢাক ও ভারতের অন্যান্য রাজা জমিদারেরা নিজেদের পশুশালা থেকেও বিভিন্ন পশু দান করে কলকাতা চিড়িয়াখানাকে সমৃদ্ধ করে।

এক নজরে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১) চিড়িয়াখানার প্রথম ভারতীয় সুপারইনটেনডেন্ট ছিলেন রামব্রহ্ম সান্যাল।

২) ১৯৭০ সালে বাঘ ও সিংহের মধ্যে প্রজনঅন ঘটিয়ে টাইগন নামের এক নতুন প্রজাতির জন্ম দেওয়া হয়, রুদ্রানী(১৯৭১) এবং রঞ্জিনী (১৯৭৩)। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং আফ্রিকান লায়নের মধ্যে এই প্রজনন ঘটানো হয়। আফ্রিকান সিংহের সাথে মিলিত হয়ে রুদ্রানী আবার আরও সাতটি লিটিগনের জন্ম দেয়। এই শংকর প্রজাতীর প্রাণীগুলি প্রজননে অক্ষম ছিল এবং জিনগত কারণে এরা বেশীদিন বাঁচে নি। তবে এই নতুন লিটিগনগুলির মধ্যে কিউবাকানান নামে একটি লিটিগণ পূর্ণবয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিল। দাবী করা হয় এটাই পৃথিবীর বৃহত্তম বিগ ক্যাট।পরবর্তীকালে আইন করে প্রাণী সংকরায়ণ নিষিদ্ধ হলে ১৯৮৫ সালে কলকাতা চিড়িয়াখানা সংকরায়ন প্রথা বন্ধ করে । ২৫ বছর বয়সে, ১৯৯৫ সালে পৃথিবীর শেষ লিটিগন রঞ্জিনী মারা গেলে এই শঙ্কর প্রজাতির পশু পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়।

৩) আলিপুর পশুশালার আয়তন ৪৫ একর। গত পঞ্চাশ বছর এই চিড়িয়াখানার বিস্তার সম্ভব হয়নি। 

৪) আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে সরকারের কোনো লাভ হয় না, ২০০৩ সালে প্রবেশ মূল্য ৫টাকা থেকে বেড়ে ১০টাকা করেও সেরকম সুবিধা হয় নি।

৫) আলিপুর চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাণীটি হল অ্যালডাব্রা দৈত্যাকার কচ্ছপ "অদ্বৈত"। রবার্ট ক্লাইভকে এটি উপহার দেয় সেসেলসের ব্রিটিশ নাবিকেরা । অদ্বৈত কচ্ছপ ১৮৭৫ সালে আলিপুর চিড়িয়াখানায় আসে। ২০০৬ সালে কচ্ছপটির মৃত্যু হয়, সেই সময় এর বয়স ছিল আড়াইশো বছরেরও বেশি। এটিই ছিল সেই সময়কার বিশ্বের প্রবীণতম প্রাণী।

কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা যাবেন কিভাবে ?

আলিপুর কলকাতা শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত স্থান হল আলিপুর। এখানে ট্রেন পথে আসতে হলে প্রথমে শিয়ালদহ বা হাওড়া আসতে হবে। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে বহু বাস রয়েছে যা ২০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে আপনাকে আলিপুর চিড়িয়াখানার সামনে নিয়ে আসবে। এছাড়া কলকাতার যে কোনো স্থান থেকে আপনি ট্যাক্সি করেও কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানায় আসতে পারেন। মেট্রো করে যারা আসবেন তারা নেতাজী ভবন বা রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশান নেমে সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি করে নিতে পারেন।

আলিপুর চিড়িয়াখানার যাওয়ার সঠিক সময়

এমনিতে সারা বছরই কলকাতার এই বিখ্যাত চিড়িয়াখানা খোলা থাকে। তবে নিশ্চিন্তে আরাম করে কলকাতার চিড়িয়াখানা সম্পূর্ণ ঘুরে দেখতে হলে ফাঁকা দিনেই আসা ভালো। সাধারণত ছুটির দিন এবং বিশেষ বিশেষ দিনে এখানে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সেই সব দিনে এখানে বেড়াতে না আসাই ভালো। চিড়িয়াখানা যাওয়ার সব থেকে ভালো সময় হল শীতকালের শুরুর দিকে।

Kolkata Alipre Zoo Jaguar Kolkata Alipore Zoo Squirrel Kolkata Alipore Zoo White Bird


আলিপুর চিড়িয়াখানা যাওয়ার আগে যেগুলি যেনে রাখা উচিত

চিড়িয়াখানার প্রবেশ মূল্য ১০টাকা। ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে চাইলে আলাদা করে চার্জ দিতে হবে, মোবাইলে ছবি তোলায় বাঁধা নেই।

চিড়িয়াখানার উলটো দিকে একটি অ্যাকোয়ারিয়াম রয়েছে, সারা বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ এবং জীবের সমাহার এখানে রয়েছে। সময় থাকলে এখানেও খানিকক্ষণ কাটিয়ে নিন

চিড়িয়াখানায় গাড়ী পার্কিং-এর সমস্যা রয়েছে, খুব প্রয়োজন না থাকলে গাড়ি নিয়ে না যাওয়াই ভালো।

ভিতরে খাবার নিয়ে প্রবেশে বাঁধা নেই, তবে নোংরা করলে ফাইন দিতে হতে পারে, শুকনো খাবার নিয়ে ঢোকা যেতেই পারে।

চিড়িয়াখানায় অ্যাটলাসের একটি দারুণ মুর্তী রাখা আছে, সেই মুর্তীর সামনে দাঁড়িয়ে একটা সেলফি অবশ্যই তুলতে ভুলবেন না।

আলিপুর চিড়িয়াখানায়, শুধু পশু পাখির জন্যে নয়, এটি তার সুন্দর বাগানের জন্যেও বিখ্যাত। পথের ধারে ধারে সুন্দর ফুলগুলোর দিক থেকে আপনার নজর যেন না সরে।


Kolkata Alipore Chiriyakhana All Photos - Click Here Download All Photo (HD)
 

বিশেষ ঘোষণা - যদি এই লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং আপনি মনে করেন যে আরো অনেকের এই তথ্য জানা উচিত তাহলে অনুগ্রহ করে এই নিবন্ধটি আপনি শেয়ার করতে পারেন। বাংলা ভাষাকে বিশ্বে আরো বেশি করে জনপ্রিয় করতে হলে, বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট খুব প্রয়োজন। আরো বেশী বেশী করে অনলাইনে বাংলা ভাষায় লেখা নিবন্ধ শেয়ার করা প্রয়োজন। যত বেশী বাংলা ভাষায় লেখা মানুষ পড়বে, সারা বিশ্বে বাংলা ভাষা আরো বেশী বেশী করে জনপ্রিয় হবে। অনলাইনে বাংলা ভাষার জয় হোক। ধন্যবাদ। শেয়ার করুন, কমেন্ট করুন।
এই নিবন্ধটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে এই পেজ এবং ওয়েবসাইট সম্পর্কে আপনার বন্ধুদেরকে জানান। নিজের ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করুন।ধন্যবাদ।


সেলিব্রিটি
Uttam Kumar Biography Soumitra Chatterjee Biography Ranjit Mallick Biography
Victor Banerjee Biography Chiranjit Chakraborty Biography Prasenjit Chatterjee Biography
Tapas Pal Biography Jeet Bengali Actor Biography Parambrata Chatterjee
Saswata Chatterjee Biography Suchitra Sen Biography Supriya Devi Biography
Mahuya Roy Chaudhury Biography Satabdi Roy Biography Debashree Roy Biography
Rachana Banerjee Biography Koyel Mallick Biography Srabanti Chatterjee Biography
Subhashree Ganguly Biography Nusrat Jahan Biography