তাজপুর - যদি একটু নিরিবিলিতে সমুদ্রের ধারে বসে সময় কাটাতে চান তবে জায়গা টা একদম উপযুক্ত। সমুদ্র এখানে বেশ শান্তই। খুব বড়ো বড়ো ঢেউ আপনি পাবেন না, তবে স্নান করা যায় ভালো ভাবেই এবং মজাও পাবেন।

Kaushik Paul || Published : 09th March, 2018

সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস যাওয়া , তারপর বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা , এসে খেয়েদেয়ে ঘুম আবার সকালে উঠে অফিস। এটাই আমার জীবন চক্র। তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব একঘেয়ে হয়ে উঠেছিলো জীবন টা। বাকি বন্ধুদের ও বলতে গেলে একই দশা। তাই সবাই মিলে ঠিক করলাম একটা কাছাকাছি কোথাও থেকে ঘুরে আসা যাক ২ দিনের জন্য।

বলতে বলতেই যাওয়ার জায়গাও ঠিক করে নিলাম। তাজপুর। হ্যাঁ বন্ধুরা কলকাতা থেকে প্রায় ১৮০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত তাজপুর ই ছিলো এবারের গন্তব্য। ২৪ শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টায় আমরা বেরিয়ে পড়লাম বিশাল এর গাড়ি তাজপুর এর উদ্যেশে। তবে এখানে বলে রাখি আমরা ৫ গেছিলাম এইবার। বিশাল, সাগ্নিক, অনিক, রাজা ও আমি। 

যারা বাসে করে যেতে চান তাদের উদ্যেশে বলি এই রুটে অনেক বাস চলে। Esplande থেকে অনেক বাস ছাড়ে দীঘা র উদ্দেশ্যে সেই বাস গুলো তে চেপে গেলেই হবে। নামতে হবে আপনাকে বালিসাই তে। ওখান নেমে তাজপুর 5 কিমি মতো, টোটো পাওয়া যায়। Esplanade ছাড়াও যারা গড়িয়ার দিকে থাকেন তাদের উদ্যেশে বলি গড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকেও দীঘা র বাস ছাড়ে। গড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস এর সময়সূচি নিচে ছবি তে দিয়ে দিয়েছি একটু দেখে নেবেন, ভাড়া ১৪০ টাকার মতো।

সকাল ৬ টায় বেরোনোয় রাস্তা বেশ ফাঁকাই ছিলো কলকাতার দিকে, তবে satragachi তে কিছুক্ষন দাঁড়াতে হয় যানজট এর কারণে। কলকাতা থেকে তাজপুর আপনি যদি আপনি নিজের গাড়ি নিয়ে যেতে চান তাহলে কতগুলো গুরত্বপূর্ণ বিষয় বলে রাখি যদি সুবিধা হয়,

১) রাস্তায় মোট ৩ টি টোল পড়বে। যাতে টোল চার্জ হলো যথাক্রমে ১০,৭০, ৯৫ টাকা।
২) নন্দকুমার অতিক্রম করার পর রাস্তা টা single lane road।
৩) নন্দকুমার এর পর রাস্তা টা একটু খারাপ এবং বাস গুলো সেরকম বেপরোয়া ভাবে চালায়। একটু যদি এইদিক ওইদিক হয় তাহলে অবধারিত দুর্ঘটনা।

যাইহোক আমরা যখন তাজপুর ঢুকলাম তখন প্রায় ১১:৩০ টা বাজে ঘড়িতে। হোটেল আমরা আগে থেকেই বুকিং করে রেখেছিলাম। আমরা গিয়ে উঠলাম মল্লিকা রিসোর্ট এ। এই গ্রুপ এর এ অনেক মেম্বার এর পোস্ট এ দেখেছিলাম এই রিসোর্ট টার উল্লেখ্য। তাই একটু গুগল করে দেখলাম বেশ ভালো লাগলো দেখেই রিসোর্ট টা। প্রায় ৩৫ বিঘা জমি নিয়ে ওনাদের প্রোপার্টি টা, দারোয়ান গেট খুলে দিতেই দেখলাম লাল মাটির রাস্তা চলে গেছে রিসোর্ট এর ভিতরে। দুদিকে সারি সারি গাছ, সুন্দর সাজানো বাগান, একটা বিশাল বড়ো পুকুর তাতে কতো হাঁস খেলে বেড়াচ্ছে। এক কথায় অসাধারণ। আমরা স্ট্যান্ডার্ড কটেজ নিয়েছিলাম ২ টো। প্রতিটার ভাড়া পরেছিলো ১৭০০ টাকা + ১২% ট্যাক্স একরাতের জন্য। তবে যদি কোনো রুম এ একজন অতিরিক্ত ব্যাক্তি থাকেন তাহলে রুম এর ভাড়ার ২০% টাকা extra দিতে হবে আপনায়। আমাদের একটা ঘরে ১ জন অতিরিক্ত থাকায় আমাদের একটা ঘরের জন্য ৩৪০ টাকা বেশি দিতে হয়েছিল। তবে তারা একটা অতিরিক্ত বেড , ম্যাট্রেস ও বালিশ দিয়েছিলো। রিসোর্ট এর চারিদিকে ঘুরেই আপনার আরাম করে ২ দিন কেটে যাবে। এক কথায় দারুন সুন্দর ভাবে ওনারা maintain করেছেন। আমি ক্যামেরা নিয়ে গেলেও যত না ছবি সমুদ্রের তুলেছি তার চেয়ে বেশি ছবি রিসোর্ট টি তেই তোলা। নিচে ছবি দেখে জানাবেন কেমন লাগলো। হোটেল খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থাও আছে । তবে আপনাকে একটু আগে থেকে অর্ডার দিতে হবে। নিচে মেনু কার্ড এর ছবি টাও দিয়ে দিয়েছি চাইলে একবার কখনো বুলিয়ে নিতে পারেন। বুকিং ডিটেলস নিচে পেয়ে যাবেন। যাইহোক হোটেল এর অনেক গুণগান এ করলাম এবার ফেরা যাক মূল কাহিনীতে।



পৌঁছেই আমরা ৩০ মিনিট এর মধ্যে তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়লাম beach এর উদ্যেশে। beach টা বেশ কাছেই। পায়ে হেটে মিনিট ১৫ লাগবে। এখানে বলে রাখি beach এর ধারে অনেক ছোটো ছোটো hut মতো আছে সেখান থেকে চাইলেও আপনি খাওয়া দাওয়া সারতে পারেন। আমরা ৩ বেলাই ঐখান থেকেই খেয়েছিলাম। দাম টা একটু বেশি খাবারের সব জায়গাতেই।

Meal(ভাত, আলুভাজা, ডাল) - ৫০-৬০ টাকা এর মধ্যে।
ডিম ভাজা- ৩০ টাকা জোড়া।
কাঁকড়া- ৪০ টাকার ছোটো কাঁকড়া
ইলিশ মাছ- ১৫০ টাকা করে ভাজা ।গোটা মাছ টা ভেজে দেবে, medium সাইজের মাছ।
ভেটকি - ৬০০ টাকা নিয়েছিলো গোটা মাছ টা ভেজে দিয়ে। ওজনে ৮০০ গ্রাম মতো হয়েছিলো।
দেশি মুরগির ঝোল- ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি নিয়েছিলো তারপর ওজন করে গোটা মুরগির যতটা দাম হয় সেটাই। আলাদা করে রান্নার দাম ধরেনি। এগুলোই মোটামুটি মনে আছে।  Hut টার নাম ছিলো hotel sea queen। যিনি দেখা সোনা করেন তিনি হলেন মধু দা। রান্না বান্না খুব ভালো। চাইলে একবার খেয়ে দেখতে পারেন আশা করি ভালোই লাগবে।

Beach পৌঁছে খাবারের অর্ডার দিয়ে আমরা বেশ জমিয়ে স্নান করলাম। তারপর দুপুরে খেয়ে দেয়ে রিসোর্ট এ ফিরে ঘুম। যাই হবার তাই হলো আমরা সূর্যাস্ত টা মিস করে গেলাম। যাইহোক সন্ধেবেলা আবার আমরা গাড়ি নিয়ে হাজির হলাম মধু দার দোকানে। সমুদ্রের পারে টেবিল এ বসে মুড়ি আর এক গামলা পাকোড়া। আহা সে কি অসাধারণ স্বাদ। রাতে গরম ভাত ডাল র দেশি মুরগি খেয়ে রিসোর্ট এ ফিরলাম। রাতে বসে একটু বন্ধুরা মিলে খেলা দেখলাম এবং আড্ডা দিলাম। তারপর যে যার মতো রুম এ চলে গেলাম ঘুমাতে।

পরেরদিন সকালে ঘুম যখন ভাঙলো ঘড়িতে তখন প্রায় ৭ টা বাজে। এবার সূর্যোদয় টাও মিস করলাম। যাইহোক সকাল টা রিসোর্ট এ ঘুরে র কিছু ছবি তুলেই কাটিয়ে দিলাম । দুপুর ১১টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম হোটেল থেকে check out করে। গাড়ি নিয়ে সমুদ্রের পারে গিয়ে মধু দার দোকানে গিয়ে দুপুরের খাওয়া দাওয়া টা সেরে ফিরে চললাম কলকাতার দিকে।

জায়গা হিসাবে তাজপুর বেশ ভালো , তবে বিশেষ কিছু দেখার নেই। যদি একটু নিরিবিলিতে সমুদ্রের ধারে বসে সময় কাটাতে চান তবে জায়গা টা একদম উপযুক্ত। সমুদ্র এখানে বেশ শান্তই। খুব বড়ো বড়ো ঢেউ আপনি পাবেন না, তবে স্নান করা যায় ভালো ভাবেই এবং মজাও পাবেন।

রিসোর্ট details:
মল্লিকা রিসোর্ট
অফিস : ৪১, শ্রীনগর মেইন রোড, গড়িয়া স্টেশন, কলকাতা - ৭০০০৯৪
ওয়েবসাইট : www.mallickaaresort.com
ফোন : +919073908452


এই নিবন্ধটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। অনুগ্রহ করে এই পেজ এবং ওয়েবসাইট সম্পর্কে আপনার বন্ধুদেরকে জানান। নিজের ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করুন।ধন্যবাদ।


সেলিব্রিটি
Uttam Kumar Biography Soumitra Chatterjee Biography Ranjit Mallick Biography
Victor Banerjee Biography Chiranjit Chakraborty Biography Prasenjit Chatterjee Biography
Tapas Pal Biography Jeet Bengali Actor Biography Parambrata Chatterjee
Saswata Chatterjee Biography Suchitra Sen Biography Supriya Devi Biography
Mahuya Roy Chaudhury Biography Satabdi Roy Biography Debashree Roy Biography
Rachana Banerjee Biography Koyel Mallick Biography Srabanti Chatterjee Biography
Subhashree Ganguly Biography Nusrat Jahan Biography